কবি
কানে শোনার মতোও একটি কবিতা, লেখেন নি তিনি।
অথবা, পাতে দেওয়ার মতো, কোনো
কবিতা-ই লেখেন নি তিনি।
অথচ, তিনিই, একটি কবিতার জন্য:
পা কে কেটে হাতকে খাওয়ালেন।
হাতকে কেটে চোখকে খাওয়ালেন।
নাককে কেটে খাওয়ালেন গুহ্যদেশকে।
শেষ বার যখন, চোখ উপড়ে নুলি কেটে নেওয়ার সময়
হল, তিনি বললেন, 'আমাকে শূলে চড়ান হুজুর'।
তাকে শূলে চড়ানো হল এবং কী আশ্চর্য
তখনও তিনি চোখে পড়ার মতো, কানে শোনার মতো বা
পাতে দেওয়ার মতো কোনো কবিতাই না লিখে শূন্য
কোটোরে অখিল ভূমণ্ডলে তাকিয়ে
হেসে গেলেন তরঙ্গের মৃদু ভঙ্গিমায়...
পরজীবী
কোনো পরজীবীই তা চায় না।
সে চায় বৃক্ষ বাঁচুক।
রোদ-জল-হাওয়ায়,
কঠিন তুষারপাতে
এবং বজ্রাঘাতেও --বৃক্ষটি বাঁচুক।
সে চায়, মাটি ফুঁড়ে,
পাথর এফোঁড়-ওফোঁড় করে বৃক্ষটি
শিকড়ে শিকড়ে জল বয়ে আনুক।
ছাগলে খেয়ে নিক তার পাতা,
জিরাফে খেয়ে নিক তার পাতা,
কাঠুরে কেটে নিয়ে যায় যাক, তার ডাল;
পত্রহীন, সরস ছাল-বাকলহীন
যদি বা সে হয়ে যায়, যাক
বৃক্ষটি তবু বাঁচুক।
সে জানে বৃক্ষ বাঁচলে
সে বৃক্ষকে অভিশাপ দিতে পারবে,
বৃক্ষ বাঁচলে সে বৃক্ষকে কুৎসতি বলতে পারবে,
আসতে-যেতে, সকাল-সন্ধে সে বৃক্ষের মুখে
মারতে পারবে আদ্দিকালের মুড়ো ঝাঁটাও।
সে আরও জানে বৃক্ষ বাঁচলে, শেষমেশ
বৃক্ষের রসে বেঁচেবর্তে থেকে
সেও ছুঁয়ে নেবে
বৃক্ষের উচ্চতা। বৃক্ষের মহিমা।
শোকসভা করে, প্রার্থনাও করে।
এমন কী খিল্লিও।
যখন সব খিল্লি শেষ হয়
তখন পরজীবীরা এই ভেবে আনন্দিত হয়:
বৃক্ষটি আসলে বৃক্ষ ছিল না।
হারামি ছিল, হারামি...