বাংলা
উন্মুক্ত
গল্প
17 মিনিট
বর্ষার সন্ধ্যায় লোডশেডিংয়ের সময় সাধনজেঠু তাঁর জীবনের একটি অলৌকিক ঘটনা শোনান। যুবক বয়সে নদীয়ার শিবপুর গ্রামে হিসাবরক্ষকের কাজ করার সময়, এক বৈশাখী রাতে শিক্ষক ফণীভূষণবাবুর সঙ্গে হরিনাম শুনে ফেরার পথে তাঁরা জলঙ্গী নদীর চরে নীল আলো এবং চারজন রহস্যময়ী নারীকে দেখতে পান। তাঁদের একজনের অলৌকিক গানে আচ্ছন্ন হয়ে দুজনে অজান্তেই গভীর জলে নেমে যান। দূর থেকে হরিনামের সুর ভেসে এলে ঘোর কাটে এবং সাধনবাবু ফণীভূষণবাবুকে ডুবতে থাকা জল থেকে উদ্ধার করেন। পরদিনও সেই অপার্থিব ঘটনার কোনো উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি; জীবন এমন কিছু রহস্য বয়ে বেড়ায়, যার সব ব্যাখ্যা হয় না।
Amiya Kumar Das
Sep 30, 2026
বাংলা
উন্মুক্ত
গল্প
19 মিনিট
বিশ বছর আগে স্ত্রী শঙ্করীর মৃত্যু হয়েছিল এক অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতি রেখে—পরজন্মে একই রূপে ফিরে এসে আবার দেখা হবে। সেই প্রতিশ্রুতিকে আঁকড়ে ধরে বিনায়ক দীর্ঘ বিশ বছর অপেক্ষা করে। অগ্রদ্বীপের গোপীনাথের মেলায় এক যুবতীর সঙ্গে আকস্মিক সাক্ষাৎ তাকে বিশ্বাস করায়, এই শঙ্করীই তার মৃত স্ত্রীর পুনর্জন্ম। নাম, জন্মতারিখ, শারীরিক চিহ্ন ও স্মৃতির নানা সূত্রে অতীত ও বর্তমানের অদ্ভুত যোগসূত্র তৈরি হয়। কিন্তু পুনর্জন্মের সত্যের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে স্মৃতি, ভালোবাসা, সংশয় এবং হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ককে আবার ফিরে পাওয়ার মানবিক আকাঙ্ক্ষা।
Bhabaranjan Biswas
Sep 27, 2026
বাংলা
উন্মুক্ত
প্রবন্ধ
62 মিনিট
গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজে শ্রীচৈতন্যদেব ভক্তিমার্গের প্রবর্তক ও অবতাররূপে সুপরিচিত, কিন্তু সংস্কৃত সাহিত্যশাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্যের দিকটি তুলনায় অনালোচিত। শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত ও চৈতন্যভাগবত-এর বর্ণনা অনুসারে, দিগ্বিজয়ী কেশবভট্টের সদ্যোরচিত গঙ্গাস্তুতি-শ্লোক বিশ্লেষণ করে নিমাই পণ্ডিত তাতে পাঁচটি দোষ (অবিমৃষ্টবিধেয়াংশ, বিরুদ্ধমতিকৃৎ, পুনরাত্ত ও ভগ্নক্রম) এবং পাঁচটি অলঙ্কার (অনুপ্রাস, পুনরুক্তবদাভাস, উপমা, বিরোধাভাস ও অনুমান) নির্দেশ করেছিলেন। এই প্রবন্ধে সাহিত্যদর্পণ ও অলঙ্কারকৌস্তুভ-এর আলোকে সেই বিচার পুনরায় পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, ব্যাকরণের অধ্যাপক হিসেবে পরিচিত চৈতন্যদেব অলঙ্কারশাস্ত্রেও গভীর দক্ষতার অধিকারী ছিলেন।
Rakesh Das, Prolay Nandi
Sep 24, 2026
বাংলা
উন্মুক্ত
প্রবন্ধ
48 মিনিট
জার্মানীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাববাদী দার্শনিক জর্জ উইলহেম ফ্রেডরিক হেগেগ ১৭৭০ সালে স্টুগার্ট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৭৮৮ সালে হেগেল টুবিগিন ( Tubingen) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর পাঠ লাভ শুরু হয় । এই বিশ্ববিদ্যালয়েই তাঁর শেলিং এর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ১৮০১ সালে হেগেল জেনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হন এবং সেখানেই তিনি Difference between the Philosophical Systems of Fichte and Schelling গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। ১৮০৭ সালে তাঁর ঐতিহাসিক গ্রন্থ The Phenomenology of Spirit প্রকাশিত হয়। ১৮১৬ সালে হেগেল হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত হন এবং ১৮১৭ সালে হেগেলের আরেকটি বিখ্যাত বই Encyclopedia of the Philosophical Science in Outlines প্রকাশিত হয়। আমৃত্যু তিনি হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন অধ্যাপকের পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। ১৮৩১ সালের ১৪ই নভেম্বর হেগেল কলেরায় আক্রান্ত হয়ে বার্লিনেই মৃত্যুবরণ করেন।
Nilambar Chakrabarti
Sep 22, 2026
বাংলা
উন্মুক্ত
কবিতা
20 মিনিট
তোমাকে বুঝিনি আমি, তবে জানি এই দীর্ঘ পথ
মানুষের ছায়া দিয়ে, সুর দিয়ে গড়া
সবচেয়ে আধুনিক, সবচেয়ে সৎ
বাংলা
উন্মুক্ত
নিবন্ধ
19 মিনিট
তসলিমা নাসরিন সেই সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসিকা। প্রতিদিন হাসপাতালে আক্রান্ত হিন্দু মানুষ আসতে থাকেন। তসলিমা তাদের চিকিৎসা করেন। দিনে দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে এর ভয়াবহতা। চিকিৎসা করার পাশাপাশি তিনি আহত, ধর্ষিত মানুষগুলির সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা সারেন। পুরোনো ঢাকার অলিগলি থেকে ‘একতা’, ‘সংবাদ’, ‘আজকের কাগজ’, ‘ভোরের কাগজ’ প্রভৃতি পত্রিকার পুরোনো সংখ্যা খুঁজে বের করেন। এই পত্রিকাগুলিতে এই ভয়াবহ দাঙ্গার বিবরণ প্রামাণ্য ভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল। হিন্দুদের উপর প্রবল অত্যাচারের বিবরণ ছাপা হয়েছিল। তসলিমা এই বিবরণ ও নিজের অভিজ্ঞতার আধারে লিখতে শুরু করেন উপন্যাস ‘লজ্জা’।
বাংলা
উন্মুক্ত
প্রবন্ধ
63 মিনিট
বেদের প্রমুখ দুইটি অংশ– মন্ত্র বা সংহিতা এবং ব্রাহ্মণ। বিষয়বস্তুর গাম্ভীর্য অনুসারে বেদের আরও দুইটি ভাগ করা হয়– আরণ্যক এবং উপনিষদ্। বেদের যে অংশে সৃষ্টির মূল সূত্র বা ব্রহ্মতত্ত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত চর্চা রয়েছে সেই অংশকে বলা হয় উপনিষদ্। যে অংশে ব্রহ্মতত্ত্ব বা সত্য সাক্ষাৎকারের উপযোগী উপাসনা প্রভৃতির বিস্তারিত চর্চা রয়েছে সেই অংশকে আরণ্যক বলা হয়। মূলতঃ, বনে বা অরণ্যে বসবাসকারী বানপ্রস্থীরা এই উপাসনা অংশের অধ্যয়ন এবং চর্চা করতেন বলে এর নাম দেওয়া হয়েছে আরণ্যক। উপনিষদ এবং আরণ্যক মূলতঃ ব্রাহ্মণেরই অংশ। কয়েকটি ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে সংহিতা ভাগেও উপনিষদ্ বা ব্রহ্মতত্ত্বের চর্চা থাকলেও মূলতঃ ব্রাহ্মণ অংশেই উপনিষদ্ রয়েছে।
বাংলা
উন্মুক্ত
অনুবাদ
9 মিনিট
বলা হয়, ঋষিরা যা দর্শন করেন সেগুলিই মন্ত্র। সত্যদর্শনের মুহূর্তে বল্লভাচার্যের মুখ থেকে শ্রীভগবানের যে বর্ণনা অনায়াস উদ্গীত হল, সেটিও মন্ত্রোপম। বড় সরল সেই স্তুতি। তাতে শব্দের আড়ম্বর নেই, রূপের চাকচিক্য নেই, অলঙ্কারের ঘনঘটা নেই– আছে কেবল সত্যের সহজ, সরল অভিব্যক্তি। সেজন্যই যুগের পর যুগ ভক্তদের কণ্ঠে কণ্ঠে ঘোরে সেই স্তুতি। এর শব্দ সংযোজনা অত্যন্ত সহজ।
বাংলা
উন্মুক্ত
সমালোচনা
5 মিনিট
এই বইয়ের পাঠক তথা অধিকারী কে? আমার মনে হয়েছে রসিক, প্রেক্ষক এবং সাহিত্য তথা শিল্প সম্বন্ধে কৌতূহলী যে কোনও ব্যক্তিই এই বইটির পাঠক হতে পারেন, এবং তার জন্য যাতে ইলিয়াড ও ওডিসির পাঠ অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায় অর্জুন ভরদ্বাজ সেই খেয়ালও রেখেছেন বইটির লেখনীতে।
Amritanath Bhattacharya
Sep 19, 2026
বাংলা
উন্মুক্ত
সমালোচনা
2 মিনিট
সব বিদ্যা সবার জন্য নয়, এই কথাটা আপাতভাবে কিছুটা অগণতান্ত্রিক শোনালেও, মূলত চর্চার মাধ্যমে আধার নির্মাণের প্রতি জোর দেওয়া এর মূল লক্ষ্য। কারণ সেই পূর্ব উল্লিখিত দেশকাল। যে বিদ্যা পৌরুষেয়, তা একটি নির্দিষ্ট দেশকালের জন্য রচিত। তাই সেই নির্দিষ্ট দেশকালের নির্দিষ্ট বিদ্যায় পারদর্শী আধিকারীই সে বিদ্যার মর্মার্থ অনুধাবন করতে সক্ষম।
Amritanath Bhattacharya
Sep 19, 2026
বাংলা
উন্মুক্ত
প্রবন্ধ
68 মিনিট
এই শিরোনামে তিনটি শব্দ আছে — পথ, পরম্পরা, বিজ্ঞান। এই তিনটি শব্দ আপাতদৃষ্টিতে পৃথক মনে হলেও, ক্রিয়াযোগের ক্ষেত্রে তারা একটিমাত্র সত্যের তিনটি মুখ। পথ বলতে বোঝায় সেই সাধনার দিশা, যা মানুষকে সসীম থেকে অসীমের দিকে নিয়ে যায়। পরম্পরা বলতে বোঝায় সেই গুরুশিষ্যক্রম, যার হাত ধরে এই পথ যুগে যুগে সঞ্চারিত হয়ে এসেছে। আর বিজ্ঞান বলতে বোঝায় — এবং এইখানেই ক্রিয়াযোগের সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য নিহিত — এই সাধনা কোনো অন্ধ বিশ্বাস বা কল্পনাপ্রসূত অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট, ক্রমবদ্ধ, পরীক্ষণযোগ্য পদ্ধতি, যার ফল প্রতিটি সাধকের নিজস্ব অনুভূতির মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষ হয়।
Amritanath Bhattacharya
Sep 19, 2026
বাংলা
উন্মুক্ত
কবিতা
5 মিনিট
বাহ্য আচার ও প্রতীকের বলির আড়ালে যে আত্মশুদ্ধির সাধনা নিহিত, এই কবিতা সেই প্রশ্নই উত্থাপন করে। কাম, ক্রোধ, মোহ, লোভ ও মাৎসর্যকে আত্মপশুবৃত্তির প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে কবি শেষ পর্যন্ত বাহ্যিক বলির সীমা অতিক্রম করে আত্মসমর্পণের দিকে নিয়ে যান—সত্যিকারের বলি অন্য কিছুর নয়, নিজেরই।
Amritanath Bhattacharya
Sep 19, 2026