Skip to main content
১১ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার · ২৮ অক্টোবর ২০২৬
আনুপূর্বী বাংলা
✦ অতীত ও অনাগত-এর সন্ধিক্ষণে ✦
আসন্ন অনুষ্ঠান 31 Oct 2026
Exploring the Place of Devotion: Siting and Experiencing Divinity in Bengal-Vaishnavism
Sukanya Sarbadhikary
লেখা পাঠান

মহাসাঙ্ঘিক থেকে মহাযান

এই প্রবন্ধে মহাসাঙ্ঘিক সম্প্রদায় থেকে মহাযান বৌদ্ধধর্মের উদ্ভব, বোধিসত্ত্বমার্গের দার্শনিক ভিত্তি এবং স্থবির নিকায়ের সঙ্গে তার মৌলিক মতপার্থক্য আলোচনা করা হয়েছে। মহাকরুণা, প্রজ্ঞাপারমিতা, শূন্যতা, সংসার ও নির্বাণের অদ্বৈত সম্পর্ক এবং বুদ্ধের লোকোত্তর স্বরূপের আলোচনার মাধ্যমে মহাযান দর্শনের ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক ভিত্তি অনুসন্ধান করা হয়েছে।
মহাসাঙ্ঘিক থেকে মহাযান
AIমহাবস্তু অবদানে সদ্যোজাত বোধিসত্ত্বকে ত্রিবিক্রমমূর্তিতে দর্শনরত অসিত | চিত্রটি প্রতীকী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তায় নির্মিত

বুদ্ধধর্মের মান্ত্রিক ধারা: মহাযান-বজ্রযানের উৎপত্তি এবং ক্রমবিকাশ

পর্ব ৩

মহাসাঙ্ঘিক থেকে মহাযান

অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতার কাব্যরূপ রত্নগুণসঞ্চয়গাথা বোধিসত্ত্ব-মহাসত্ত্ব এবং মহাযানের সংজ্ঞা নিরূপণ করে,

ইন্দ্রজালের কোনো বস্তু‌ই বাস্তব নয়। সংসারপ্রকৃতির‌ও এক‌ই সার। বদ্ধ জীব যে মায়াকে জানতে না পেরে বিভ্রান্ত হচ্ছে, বোধিসত্ত্ব সে মায়াকে প্রজ্ঞাজ্ঞানে আলিঙ্গন করে নির্ভীক রয়েছেন। বোধিসত্ত্ব বুঝেছেন, সংসারের সার শূন্য। ভবের উপাদান কখনো উৎপন্ন‌ই হয়নি, সেখানে পৃথক মুক্তিচিন্তা বাতুলতা। এই শূন্যতার সমাধিতে একাগ্রচিত্ত হয়ে বোধিসত্ত্ব বোধির উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন।

কিং কারণং অয়ু প্রবুচ্যতি বোধিসত্ত্বো সর্বত্র সঙ্গক্রিয় ইচ্ছতি সঙ্গছেদী।

বোধিং স্পৃশিষ্যতি জিনান অসঙ্গভূতাং তস্মাদ্ধি নাম লভতে অয়ু বোধিসত্ত্বো॥

মহসত্ত্ব সোঽথ কেনোচ্যতি কারণেন মহতায় অত্র অয়ু ভেষ্যতি সত্ত্বরাশেঃ।

দৃষ্টীগতাং মহতি ছিন্দতি সত্ত্বধাতোঃ মহসত্ত্ব তেন হি প্রবুচ্যতি কারণেন॥

মহনায়কো মহতবুদ্ধি মহানুভাবো মহযান উত্তমজিনান সমাধিরূঢ়ো।

মহতা সনদ্ধু নমুচিং শঠ ধর্ষয়িষ্যে মহসত্ত্ব তেন হি প্রবুচ্যতি কারণেন॥

মায়াকরো যথ চতুষ্পথি নির্মিণিত্বা মহতো জনস্য বহু ছিন্দতি শীর্ষকোটী।

যথ তে চ মায় তথ জানতি সর্বসত্ত্বাং নির্মাণু সর্ব জগতো ন চ তস্য ত্রাসো॥

রুপং চ সংজ্ঞ অপি বেদন চেতনা চ বিজ্ঞান বন্ধু ন চ মুক্ত অসঙ্গভূতো।

এবং চ বোধি ক্রমতে ন চ লীনচিত্তো সংনা হ এষ বরপুদ্গল‍উত্তমানাম্॥

কিং কারণং অয়ু প্রবুচ্যতি বোধিযানো যত্রারুহিত্ব স নির্বাপয়ি সর্বসত্ত্বান্।

আকাশতুল্য অয়ু যান মহাবিমানো সুখসৌখ্যক্ষেমভিপ্রাপণু যানশ্রেষ্ঠো॥

কেন আমরা বোধিসত্ত্বের কথা জানব? বোধিসত্ত্বের কোন প্রয়োজন? স্থবির নিকায়ের বুদ্ধ যখন নির্বাণে সংসারকে পূর্ণত্যাগ‌ করেছেন তখন মহাযানীরা বিপরীতে দাঁড় করিয়েছেন বোধিসত্ত্বের মহাকরুণাকে। “সর্বত্র সঙ্গক্রিয় ইচ্ছতি সঙ্গছেদী”, সংসারে সর্বসঙ্গে কর্ম নির্বাহ করেও অসঙ্গ বোধিতে রতি, তাই “বোধিসত্ত্ব”। বদ্ধ জীবের অবিদ্যা ছিন্ন করেন, তাই “মহাসত্ত্ব”। মহানায়ক, মহতবুদ্ধি, মহানুভব; মহাযানে মহাবর্মে সজ্জিত হয়ে শঠমার-ধর্ষণকারী মহাযোদ্ধৃ মহাশূর, তাই “মহাসত্ত্ব”। প্রজ্ঞা বোধিসত্ত্বকে দেখান, সংসার মায়া। বুদ্ধ ফেনপিণ্ডূপম সূত্রে সংসারের মায়াপ্রকৃতি বোঝাতে বলেছিলেন, চাতুর্মহাপথে কোনো ঐন্দ্রজালিক যখন ইন্দ্রজাল প্রদর্শন করেন, সমবেত জনতা তাঁর কলাকৌশল্যে মুগ্ধ হয়। ইন্দ্রজালের কোনো বস্তু‌ই বাস্তব নয়। সংসারপ্রকৃতির‌ও এক‌ই সার। বদ্ধ জীব যে মায়াকে জানতে না পেরে বিভ্রান্ত হচ্ছে, বোধিসত্ত্ব সে মায়াকে প্রজ্ঞাজ্ঞানে আলিঙ্গন করে নির্ভীক রয়েছেন। বোধিসত্ত্ব বুঝেছেন, সংসারের সার শূন্য। ভবের উপাদান কখনো উৎপন্ন‌ই হয়নি, সেখানে পৃথক মুক্তিচিন্তা বাতুলতা। এই শূন্যতার সমাধিতে একাগ্রচিত্ত হয়ে বোধিসত্ত্ব বোধির উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন। “বোধিযান” কেন? এই যানে বোধিসত্ত্ব ভবসাগরে ডুবন্ত সত্ত্বরাশিকে উদ্ধার করেন। যানশ্রেষ্ঠ এই মহাবিমান মহাশূন্য আকাশকল্প শান্ত—অনন্ত। এই বিমানচারী সৌখ্যক্ষেম লব্ধ হন।

স্থবির নিকায়ের অনুসারী বিশ্বাস করেন, বোধিলাভের জন্য সংসার ত্যাগ করা বাধ্যতামূলক।[1] মহাযানী বলেন, সংসার ও নির্বাণ দুই নয়। সংসারের গূঢ় তত্ত্ব যিনি সম্যক অনুধাবন করতে পারেন তিনি সংসারের বাইরে মুক্তি খোঁজেন না, বরং বোঝেন, সংসারপ্রকৃতিকে সম্যক জানাতেই মুক্তি। সংসারপ্রকৃতিই সেই সদ্, অসদ্, সদসদ্, অসদসদ্ চতুষ্কোটি-বিনির্মুক্ত প্রজ্ঞা যাঁকে জানার জন্য সম্যকসম্বুদ্ধ বারম্বার বোধিসত্ত্বশরীর ধারণ করেছেন। বোধিসত্ত্বের মার্গ এড়িয়ে গিয়ে শ্রাবক স্তরের জ্ঞান দিয়ে অনুত্তর সমাধিলাভের চেষ্টা গবেষণাগারে না ঢুকে শুধু ব‌ই মুখস্থ করে স্বল্পশ্রমে বিজ্ঞানী হতে চাওয়ার মতো। বুদ্ধপ্রজ্ঞার গূঢ় চর্যা যেহেতু একমাত্র মহাযানে আছে, নির্বিকল্প অদ্বয় পরমার্থ‌ও তাই কেবল মহাযানীর‌ই গম্য।

স্থবির নিকায় ও মহাযানের প্রাথমিক মতপার্থক্য : —

স্থবির নিকায় অনুসারীমহাযান অনুসারী
স্থবির নিকায়ের অনুসারী বিশ্বাস করেন, অর্হতের অনুত্তর সমাধিলাভ সম্ভব।মহাযানী বিশ্বাস করেন, অর্হতের অনুত্তর সমাধিলাভ সম্ভব নয়।
স্থবির নিকায়ের অনুসারী বোধিসত্ত্বের চর্যাকে বুদ্ধশ্রাবকের চর্যার ঊর্ধ্বতন মানেন না।[2]মহাযানী বোধিসত্ত্বচর্যাকেই সম্যকবোধি লাভের একমাত্র মার্গ বলে মানেন।
বুদ্ধশ্রাবকের স্থান মহাযানে বোধিসত্ত্বের নীচে।
স্থবির নিকায়ে বুদ্ধশ্রাবকের একমেবাদ্বিতীয় লক্ষ্য নির্বাণ। অনুত্তর সমাধি স্পর্শ করেও পরার্থসাধনের দায়ে সংসারে ফিরে আসার মহাযানী ব্যাখ্যাকে স্থবির নিকায় স্বীকৃতি দেয় না।মহাযানী বলেন, সার্থবাহ রত্নদ্বীপে বাণিজ্যে গেলে সেখান থেকে রত্ন
আহরণ করে স্বদেশে ফিরে আসেন। একা রত্ন ভোগের লোভে রত্নদ্বীপেই ঘর বেঁধে রয়ে যান না চিরকাল। তাঁর জাতির দারিদ্র্যদুঃখ মোচনের দায় থাকে। বোধিসত্ত্ব‌ও তেমন নির্বাণ স্পর্শ করে সংসারে ফিরে আসেন ভবদুঃখে কাতর জীবকে উদ্ধার করতে।
স্থবির নিকায়ে সংসার ও নির্বাণের অদ্বয়স্বভাবের স্বীকৃতি নেই।মহাযানে সংসারের স্বরূপ‌ই নির্বাণ। সংসার থেকে ভিন্ন নির্বাণের মনন
মহাযানী করেন না।
স্থবির নিকায়ে প্রজ্ঞাপারমিতা শাস্ত্রের স্বীকৃতি নেই।মহাযানীর কাছে প্রজ্ঞাপারমিতা শাস্ত্র ধর্মকোশস্বরূপিণী। প্রজ্ঞাপারমিতা
ব্যতিরেকে অপরাপর সূত্রবচনে আসক্তি রাখা আস্ত রাজহস্তী পেয়েও তার সদ্ব্যবহার না করে তার লেজ, ঠ্যাং, শুঁড় নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক গবেষণায় কালপাতের সমার্থক।
স্থবির নিকায়ে বুদ্ধের ত্রিকায়ার[3] ধারণা অস্বীকৃত।মহাযানী মানেন, পরমার্থত বুদ্ধ কোনোদিনই ভবপাশে
আবদ্ধ হননি। মর্ত্যজগতে বুদ্ধের আবির্ভাব লোকানুবর্তিক
লীলা মাত্র।

পরমার্থত বুদ্ধ যে কোনোদিন ভবপাশে আবদ্ধ হননি, সে কথা প্রথম প্রামাণ্যভাবে লোকোত্তরবাদী মহাসাঙ্ঘিকদের মহাবস্তু অবদানে পাওয়া যায়—

লোকোত্তরা ভগবতো চর্যা লোকোত্তরং কুশলমূলং।

গমনং স্থিতং নিষণং শয়িতং লোকোত্তরং মুনিনো॥

যত্তৎসুগতশরীরং ভবতে ভবস্য বন্ধনক্ষয়করণং।

লোকোতরং তদপি ভো ইত্যত্র ন সংশয়ঃ কার্যো॥

চীবরধরণং মুনিনো লোকোত্তরং অত্র সংশয়ো নাস্তি।

আহারাহরণমথো লোকোত্তরমেব সুগতস্য॥

দেশনা নরনাগানাং সর্বলোকোত্তরা মতা।

যথাতথং প্রবক্ষ্যামি মাহাত্ম্যং বরবুদ্ধিনাং॥

দেশকালবশং প্রাপ্য পরিপাকং চ কর্মণঃ।

সত্যং বা অভিনিবৃতং ধর্মং দেশেন্তি নায়কাঃ॥

লোকানুবর্তনাং বুদ্ধা অনুবর্তন্তি লৌকিকীং।

প্রজ্ঞপ্তিমনুবর্তন্তি যথা লোকোত্তরামপি॥

বুদ্ধের চর্যা, কুশলমূল, অধিষ্ঠান, শয়ন, গমন, চীবরধারণ, পিণ্ডাচরণ, ধর্মদেশনা সব‌ই লোকোত্তর। লোকহিতার্থে বুদ্ধ সাংবৃতিক সত্যের সঙ্গে আপোষ করেন। যখন বুদ্ধ নশ্বর দেহে সংসারে আসেন, তাঁকে দেখে মনে হয় তিনিও আমাদের‌ই মতো প্রারব্ধ ভোগ করছেন। কিন্তু ঐ প্রারব্ধ এড়াবার ক্ষমতা তাঁর ছিল। সন্তানের দুঃখ তাঁকে নির্বিকার থাকতে দেয়নি, তাই তিনি স্বেচ্ছায় লোকোত্তর থেকে লৌকিকে অবতীর্ণ হয়েছেন।[4]

নাগার্জুনের দ্বাদশকারনয় স্তোত্রেও মহাবস্তুর লোকোত্তরবাদের প্রতিধ্বনি শোনা যায় —

কুসীদিনঃ প্রেরয়িতুং সুশীঘ্রং, প্রবিত্রকৌশীনগরীয়ভূমৌ।

ত্যক্ত্বামরং বজ্রসমানকায়ং নমামি যাতং পরিনির্বৃতিং তম্॥

বুদ্ধের রক্তমাংসের শরীরকেও নাগার্জুন অমর বজ্রদেহ বলেছেন। বুদ্ধ নিজে না চাইলে মৃত্যু তাঁকে স্পর্শ করতে পারত না। তবু তিনি দেহ ত্যাগ করেছিলেন সাংবৃতিক অনিত্যতার অমোঘ সত্য দর্শিয়ে সন্তানকে পরমার্থের দিকে ঠেলে দেবার উদ্দেশ্যে। বুদ্ধের লোকোত্তর ধর্মকায়ার ধারণা স্থবির নিকায়েও একেবারে অনুপস্থিত নয়। অগ্গঞ্ঞ সূত্রে ব্রাহ্মণদের ঈশ্বরমুখনিঃসৃত হবার গল্পের উত্তরে বুদ্ধ বলেছিলেন,

‘ভগবতোম্হি পুত্তো ওরসো মুখতো জাতো ধম্মজো ধম্মনিম্মিতো ধম্মদায়াদো’তি। তং কিস্স হেতু? তথাগতস্স হেতং, বাসেট্ঠ, অধিবচনং ‘ধম্মকায়ো’ ইতিপি, ‘ব্রহ্মকায়ো’ ইতিপি, ‘ধম্মভূতো’ ইতিপি, ‘ব্রহ্মভূতো’ ইতিপি।

বুদ্ধের শিষ্যরাই প্রকৃত ব্রহ্মমুখনিঃসৃত, ব্রহ্মের ঔরসজাত, ধর্মে জাত, ধর্মে নির্মিত, ধর্মদায়দ। কারণ ধর্মকায়, ব্রহ্মকায়, ধর্মভূত, ব্রহ্মভূত তথাগতের‌‌ই অধিবচন।

মূল স্থবির নিকায়েই বেদের পুরুষসূক্তের প্রমাণপুরুষকে তথাগতের‌ ধর্মশরীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে আচার্য্য মাতৃচেট বর্ণার্হবর্ণ বুদ্ধস্তোত্রে বলেছেন,

ব্রাহ্মণা ব্রহ্মাণঃ পুত্রা ঔরসা মুখজা ইতি।

প্রসৃতো লোকবাদোঽয়ং ত্বয়ি সাফল্যমাগতঃ॥

“ব্রাহ্মণগণ ব্রহ্মের পুত্র, তাঁর ঔরসজাত এবং মুখোদ্ভূত”—এই শ্রুতি তোমার‌ই মাধ্যমে সার্থকতা লাভ করেছে। রত্নাকরশান্তিপাদ মহামায়া তন্ত্রের গুণবতী টীকায় বলেছেন, “ব্রহ্মাণস্তথাগতাঃ”।

মহাযানকে ছিন্নমূল বলা চলে না। বরং স্থবিরবাদীরাই নিকায়ে বুদ্ধের ধর্মকায়ার উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও তাতে আমল দিলেন না। ব্রহ্মকে মনোময় কোশে উপলব্ধি করার স্থবিরবাদীর যে অক্ষমতা, সে স্থবির নিকায়ের‌ই ঘাটতি। মহাযান না এলে সে ঘাটতি অপূর্ণ‌ রয়ে যেত। জগতের মায়োপম খ্যাতি, উপাদানধর্মের চতুষ্কোটি-বিনির্মুক্ত প্রকৃতি, অদ্বয় পরমার্থ, প্রজ্ঞা, পারমিতা, বোধিসত্ত্বচর্যার মতো যে ধারণাগুলির উপর ভিত্তি করে মহাসাঙ্ঘিক-মহাযান দর্শন দাঁড়িয়ে আছে সেই ধারণাগুলির একটিও মহাসাঙ্ঘিক বা মহাযানীর নিজস্ব আবিষ্কার নয়। সব স্থবির নিকায়ের স্বীকৃত বুদ্ধবচন থেকেই আসা।

  1. স্থবিরবাদীর নেক্খম্ম বা নৈষ্ক্রাম্য নামে পৃথক একটি পারমিতাই আছে। মহাযানেও নৈষ্ক্রাম্যের আদর্শ ও চর্চা স্বীকৃত, কিন্তু তাকে ছয় বা দশ পারমিতার তালিকায় স্বতন্ত্র পারমিতা হিসেবে গণ্য করা হয় না। ↑

  2. বুদ্ধশ্রাবকের অভিভাবকত্বে একজন সম্যকসম্বুদ্ধ থাকেন, কিন্তু স্থবির নিকায়ে বোধিসত্ত্বের তেমন প্রামাণ্য অভিভাবক না থাকায় বোধিসত্ত্ব কুশল-অকুশল দুই প্রকার কর্মের‌ই ভাগী হতে পারেন বলে স্থবিরবাদীরা বিশ্বাস করেন। বিপরীতে মহাযান বোধিসত্ত্বদের সুগতাত্মজ উপাধিতে প্রতিষ্ঠা করে। মহাযানে সম্যকসম্বুদ্ধগণ পূর্বে বোধিসত্ত্বের পিতা, পরে শ্রাবকের অভিভাবক। ↑

  3. অবাঙ্মনসগোচর ধর্মকায়া, ধ্যানগোচর সম্ভোগকায়া, এবং সংসারগোচর নির্মাণকায়া মহাযানের ত্রিকায়সূত্রে দ্রষ্টব্য। ↑

  4. রবীন্দ্রনাথ “বৌদ্ধ ধর্মে ভক্তিবাদ” প্রবন্ধে মহাযানে বুদ্ধের করুণাবতার প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন। ↑

'বুদ্ধধর্মের মান্ত্রিক ধারা: মহাযান-বজ্রযানের উৎপত্তি এবং ক্রমবিকাশ' — ধারাবাহিকের সূচিপত্র

মোট ৪টি পর্ব
Koyel Bhattacharya K
লেখক পরিচিতি
প্রোফাইল →

Koyel Bhattacharya

কোয়েল ভট্টাচার্য্য পশ্চিমবঙ্গের চাকদহের একজন লেখিকা। বৌদ্ধধর্ম, বিশেষত আদি মহাযান তাঁর গভীর আগ্রহের বিষয়। নাগার্জুনের মাধ্যমিক দর্শন তাঁকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। হিন্দু ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের মধ্যেকার সমৃদ্ধ এবং প্রায়শ বিস্ময়কর যোগসূত্র অন্বেষণ করতে তিনি ভালোবাসেন। দর্শন ও ধর্মচিন্তা থেকে শুরু করে এই দুই মহান আধ্যাত্মিক জগতকে গড়ে তোলা বিচিত্র দেবদেবী, কাহিনি ও পরম্পরা পর্যন্ত তাঁর আগ্রহের পরিধি বিস্তৃত।

স্বত্ব ও লাইসেন্স: এই রচনাটি CC BY-NC-ND 4.0 লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত। মূল লেখকের নাম ও ‘আনুপূর্বী’ পত্রিকার সূত্র উল্লেখ সাপেক্ষে অবাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত।
গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা: এখানে প্রকাশিত লেখক, অতিথি ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য ও মতামত একান্তই তাঁদের নিজস্ব; তা Poorvam-এর নীতি বা অবস্থান প্রতিফলিত করে না।

Koyel Bhattacharya-এর আরও লেখা