Skip to main content
Search
Author
Literature · 3 Oct 2026 · বাংলা · Anupurvi

বিদ্যাং দেহি নমোऽস্তুতে

বিদ্যাং দেহি নমোऽস্তুতে
একটি গ্রামীণ জীবনের আবহে সরস্বতী পুজোর দিনকে কেন্দ্র করে দুই দাবাপ্রেমী—শান্তিরঞ্জন ও মহেশ্বরের—অভিমান, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পরাজয় ও আত্মোপলব্ধির কাহিনি। মাছ ভাগাভাগি নিয়ে সামান্য বিরোধের আড়ালে উঠে আসে আগের রাতের দাবার আসরের অপমান ও পরাজয়ের স্...

হালকা শীতে আড়মোড় ভাঙা আজকের সকালটাতো বেশ ছিল। শ্রীপঞ্চমীর সকাল বলে কথা। ঘরে ঘরে সরস্বতীর আরাধনা। পঞ্চমী পালনে আর আচারে গ্রামের মানুষের কোনো খামতি নেই। মূর্তি এনে পুজো হয় কেবল প্রাইমারি স্কুলে আর যুবক সংঘে। মিষ্টি রোদ ছড়িয়ে আছে চারদিকে। এ সময় শীত যাই যাই করে বটে, যায় না। চিমড়ে শীত একটু একটু করে থেকে যাবে সেই দোলপূর্ণিমা পর্যন্ত। সকালের রোদে সবার গায়ে একটা করে ছোটো পাতলা চাদর। আরামই লাগছে। ছেলেমেয়েরা সকাল সকাল স্কুলে যাবে ধপধপে জামাকাপড় পরে। ছোটো মেয়েরাও আজ দু-বিনুনি চুলে আস্ত শাড়ি পরে পুষ্পাঞ্জলি দেবে। খিচুড়ি আর বাঁধাকপির তরকারি খাবে পাত পেড়ে।

এ দিকে পাড়ার বড়রা সবাই জড়ো হয়েছে আজ উত্তম গোড়ের পাড়ে। উত্তম গোড়ের জলে বিশাল তেঁতুলগাছটার ফাঁক দিয়ে তেরছা রোদ ঝিলিক দিচ্ছে। একটা-দুটো ছোটো মাছ তখনও পুকুরের দলদামের ভেতরে লাফ দিয়ে জল-খেলা করছে। সেই লাফ আনন্দে না ভয়ে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। কেননা অনেক দিন পর পুকুরে জেলে নেমেছে। পঞ্চমীতে আঁশ একটু খেতেই হয়। শুধু মাছই নয়, গ্রামের ঘরে ঘরে আজ একটি বিশেষ রান্না হবে। গোটা-সেদ্ধ। সবই গোটা গোটা। মুসুরের ডালের সঙ্গে সব রকমের সবজি আর শাকের সেই সেদ্ধ-পাক দক্ষিণবঙ্গের রান্নার এক বিশেষ ঘরানা। পরের দিন কোনো রকম গরম রান্না না খাওয়ার রীতি। গোটা সেদ্ধ, মাছের রসা, টকসহ যাবতীয় রান্না হয়ে যাবে আজ। সযত্নে রাখা থাকবে কালকের জন্য। কাল রান্নার হেঁসেলে ছুটি। উনুনে আগুন কিছুতেই ধরবে না।

উত্তম গোড়ের মতো আরও অনেক অনেক পুকুর আছে এ গ্রামে। কোনোটার নাম মাধুরী, কোনোটা বুলবুলি, বাবলা পুকুর বা হাজরা গোড়ে, তালপুকুর। এক-একটা পুকুরের চরিত্র এক-এক ধরনের। কোনোটার মাছের স্বাদে বিশেষত্ব, কোনোটা আবার গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন ঘাট-সারার কাজে বেশি ব্যবহার হয়। আবার কোনোটা দেখতে পরিত্যক্ত কালো হলেও মাছ হয় কিন্তু ভালোই। তবে পুকুরের সত্ত্ব বা মালিকানা নির্ধারিত হয়ে আছে কখনও এককভাবে, কখনও-বা গ্রামের মানুষের এক-এক দলের। আজ মাছ ধরার সময় সবাই তাই পৌঁছে গেছে যার যেখানে অংশ, সেই পুকুরের ধারে। জেলে আসে কয়েক জনই। মাছ ধরা হলে, কেটে সমান ভাগে ভাগ করে একটা জায়গায় রাখা হবে। ওজনের জন্য দাঁড়িপাল্লা রাখা হয় না। গ্রামবাসীদের পরস্পরে এটুকু বিশ্বাস আছেই। তবে মাছ ভাগের দায়িত্বটা সংশ্লিষ্ট জেলেকেই দেওয়া থাকে। যে যার মতো মাছের একটা করে ভাগ তুলে নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দেবে। ভাগ করার সময় সকলের কড়া নজর অবশ্যই থাকে। একটু কম বা বেশি যেন না হয়।

নামের মাহাত্ম্যতেই হোক বা অন্য কোনো কারণে, উত্তম গোড়ের মাছের আস্বাদ খুব ভালো। সমান অংশ এ পাড়ার ছ’জনের। ওজন না করলেও সবাই আন্দাজে বুঝে যায় কতটা মাছ ধরা হলো এবং তার ভাগেই বা এলো কতটা। যাদের কোনো পুকুরেই অংশ নেই, তারা অল্প হলেও জেলের কাছ থেকে মাছ বাজার দরে কিনে নেয়। মাছ ধরার পারিশ্রমিক হিসেবে জেলে পায় একটা অংশ। সে ওটা বিক্রি করে।

অন্য পুকুরগুলোতে আজ মাছ ভাগাভাগি ঠিকঠাক হয়ে গেলেও উত্তম গোড়ের পাড়ে কোথায় যেন একটু তাল কেটে গেল সাতসকালেই। পুকুরের অংশীদার ছ’জনের মধ্যে দুজন অংশীদার, মহেশ্বর কাইতি আর শান্তিরঞ্জন সামন্তর মধ্যে মারপিট না হলেও সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে ঝগড়া একটু হলোই। মহেশ্বরের অভিযোগ, মাছ আজ ভাগ ঠিকমতো হয়নি এবং শান্তির ভাগটা যে ভাবেই হোক, বেশি হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, শান্তিরঞ্জনের সূক্ষ্ম কারসাজিতে কেষ্ট জেলে নাকি এটা করেছে গতকাল রাতের একটি ঘটনার সুতো ধরে।

২

রোজ সন্ধ্যায় এই গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের তাস আর দাবা খেলার একটা আসর বসে রায়-বাড়ির বৈঠকখানায়। এ আসর বহুদিনের। সারাদিনের কাজকর্ম শেষ করে সন্ধ্যার মুখে কজন এসে হাজির হয়। অতিরিক্ত পাওনা হিসেবে এখানেই তারা নিয়মিত শোনে গ্রামের একমাত্র রেডিওটি। রেডিও থাকে বৈঠকখানারই একটা কুলুঙ্গিতে। কেউ শোনে দুপুরে ‘অনুরোধের আসর’, কেউবা সন্ধ্যায় পল্লীমঙ্গলে ‘চাষী ভাইদের বলছি’ আর স্থানীয় সংবাদ। বারান্দায় পাতা সতরঞ্জির একদিকে থাকে তাস আর একদিকে দাবা। হেরিকেনের অল্প আলোয় আর আঁধারে গুটি আর সাদা-কালো বোর্ডকে মাঝে মাঝে শান্তিরঞ্জনের কিছুটা ভৌতিক লাগে। চারজন তাস আর দুজন দাবা খেলার সুযোগ পায় এক-একটা গেমে। বাকিরা দর্শক, কিন্তু ঘুরে ফিরে তারাও একবার করে খেলার সুযোগ পাবে। রোজ হেরিকেনের আলোর মাথায় রাখা থাকে দু-তাড়া বিড়ি। বিড়ি যাতে মিইয়ে না যায়। ছোটো ছোটো কাচের গ্লাসে একবার মাত্র রায়-বাড়ির অন্দর থেকে চা আসে। এটা এক বাড়তি আকর্ষণ।

শান্তিরঞ্জন আর মহেশ্বর দুজনেই দাবা-পাগল এবং তাসের টোয়েন্টি নাইন দু-চক্ষে দেখতে পারে না। হলো কী, গত সন্ধ্যায় দাবার দলে লোক হয়ে যায় একটু বেশি। ফলে সন্ধের দিকে, ওদের খেলার সুযোগ আসে না। বোর্ড হাতে পেতে সন্ধে পেরিয়ে একটু রাত হয়ে যায়। ওদের খেলা শুরু হয় ভালোই। সমান-সমান গতিতে। বোড়ের চাল দিয়ে শুরু। দুজনেই একটা করে বোড়, একটা গজ বা হাতি হারায়। ইতিমধ্যে শান্তিরঞ্জনের চোখে কীভাবে যেন একটু ঢুলুনি আসে এবং ভুল করে হঠাৎ একটা চাল দেওয়ায় মহেশ্বরের ঘোড়া শান্তির মন্ত্রীকে খপ করে খেয়ে নেয়। ব্যস, আর যায় কোথা। শান্তিরঞ্জন যত বলে, তার হঠাৎ ঢুলুনি আসার কথা এবং দেওয়া চালটা এবারের মতো ফেরত নিতে। মহেশ্বর ছাড়বে কেন। বলে ওঠে—

— ভুল ইজ ভুল। কেন, মন্ত্রী ছাড়া কি খেলা হয় না? তোমার ঢুলুনি এলো, তার জন্যও আমি দায়ী?

— তা বলে একটা ভুল করে দেওয়া চাল ফেরত নিতে পারব না? এটা কি কমপিটিশনের খেলা নাকি, যে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে?

— না। এটা আমার জেতা গেম। পরের বোর্ড খেলো। মাত করো।

দু-চারটে কথা বলতে বলতে শান্তিরঞ্জন এতই রেগে ওঠে যে বোর্ড উল্টে দিয়ে উঠে হনহন করে সেই রাতের মতো আসর ছাড়ে। ঠিক পরের দিন পঞ্চমীর সকালে দেখা গেল আগের রাতের দাবা খেলার ঝগড়ার রেশ রয়ে গেছে শান্তিরঞ্জনের মনে। একটুও ভুলতে পারেনি। মহেশ্বরের ধারণা কালকের পরাজয় না মানতে পেরে শান্তিরঞ্জন কারসাজি করে জেলেকে দিয়ে মাছের ভাগ বেশি নিয়ে নিয়েছে। রাগে গরগর করতে করতে মহেশ্বর বলে ওঠেন—

— জানো তো পাপ বাপকেও ছাড়ে না। একটু মাছের ভাগ বেশি নিয়ে কালকের দাবার হারের জবাব দিচ্ছ? ছি ছি। ভগবান আছেন। আমি এর প্রতিশোধ একদিন নেবই। দেখে নিয়ো।

পঞ্চমীর দিন সকালটা হঠাৎ আজ এভাবে গরম হয়ে উঠবে, অন্য অংশীদারেরা কেউ ভাবেইনি। তাও একটা ফালতু কারণে। কেউ প্রথম বুঝতেই পারছিল না ওদের ঝগড়ার আসল কারণটা কী। একবার দাবার উল্লেখ করায় পাড়া-পড়শি বুঝল দাবা খেলায় হার-জিত নিয়ে ওদের দুজনের ঝগড়া হয়েছে। ওদের চেয়েও বয়েসে বড় আর এক অংশীদার অবসর নেওয়া কানাই মাস্টার বসেই ছিলেন পুকুরের ধারে। বললেন—

— আজ সরস্বতী পুজো। পঞ্চমীর দিন বলে কথা। এরকম একটা দিনে তোমরা ঝগড়া করছ? জানো তো, বিদ্যা বিনয় দান করে। বিদ্যা দদাতি বিনয়ং।

মাস্টারমশায়ের মুখে এসব শুনে দুজনের আর কেউ কথা বাড়ায় না। মাছের ভাগ নিয়ে যে যার মতো চলে যায়। ভাগাভাগি করার দায়িত্ব যার ছিল, সেই কেষ্ট জেলে সব দেখে-শুনে হতভম্ব হয়ে যায়। জাল গুটিয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকায়। ভাবে, তার অপরাধটা কোথায়। সে তো আর নিক্তি ধরে মাছ ভাগ করেনি।

৩

বসন্তপঞ্চমী চলে গেল। ঘরে ঘরে মাঘ মাসের শুক্ল তিথির এই দিনটিতে জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা হলো শাস্ত্রে বলা মন্ত্র উচ্চারণে। ছেলেমেয়েরা উপবাস পালন করে পুষ্পাঞ্জলি দিতে ভোলে না। যে যেখানে পারে। স্কুলে, ক্লাবে বা বাড়ির পুজোয়। পরীক্ষা পাশের ভয় তো ওদের থাকেই।

সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাং দেহি নমোऽস্তুতে॥

শীত উত্তরাধিকার দিয়ে চলে যায় যে বসন্তকে সেই ঋতুর আগমনও সূচিত হয় এদিন থেকে। পরের দিন ষষ্ঠী, তাও পালিত হলো গ্রামের ঘরে ঘরে। দইয়ের টিপ কপালে নিয়ে। জোড়া শিম, মটরশুঁটি, শিস-পালং আর সবে জেগে ওঠা সজনে ফুলে শোভিত গোটা সেদ্ধ খাওয়া হলো ধনী-দরিদ্র সবার ঘরে।

এসবের পরেও চাপা একটা রাগ শান্তিরঞ্জন এখনও মনে মনে বয়ে বেড়ায়। কবে চলে গেছে সেই রাত। মহেশ্বরের সঙ্গে খেলতে গিয়ে অকারণ সেই পরাজয় এখনও যেন তার খালি গায়ে বিছুটির চাবুক মারে। মনে পড়লেই সর্বাঙ্গ কেঁপে ওঠে। পরাজয় এমনই।

শান্তিরঞ্জন সেদিন হেরে যাওয়ার পর বাড়িতে ফিরে, রাতে ঘুমোতে পারেনি। একটা ছোট্ট অসতর্ক মুহূর্ত কীভাবে মানুষকে বিপর্যস্ত করে দেয়, সেদিন সে বুঝেছিল। তারপর মনে মনে একটা প্রতিজ্ঞা করে কিছুটা ভারমুক্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত হলো বিনা মন্ত্রীতেই মহেশ্বরকে একদিন সে হারাবে।

রায়-বাড়ির সন্ধ্যার দাবার আসরে পরের দিন থেকেই শান্তিরঞ্জন যাওয়া বন্ধ করে। কিন্তু মনে মনে প্রতি মুহূর্তে বয়ে বেড়ায় তার প্রতিজ্ঞার কথা। কী করা যায়? অনেক ভেবে শেষ পর্যন্ত একদিন শহরে গিয়ে চুপিচুপি একটা দাবার বোর্ড কিনে বাড়ি ফেরে। সাদা-কালোর বোর্ডে গুটি বসিয়ে নানাভাবে সে দেখত আর খেলত। শয়নে স্বপনে জাগরণে। একা একা গুটি সাজিয়ে যখন-তখন সে বোর্ড নিয়ে বসে পড়ে। গভীর রাতে তার ঘুম ভেঙে যায়। সাদা-কালো এই দুই রং আর চৌষট্টিটা চৌকো খোপ তাকে যেন আক্রমণ করে। সে ভূতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। খেলা প্র্যাকটিস করেই চলে। দু-দিকের সাদা আর কালো গুটিতে নিজেই এক হাতে চাল দেয়। নিজের মন্ত্রীকে নিজেই অন্য দিক থেকে খেয়ে নিয়ে তবে ওর তৃপ্তি হয়। মন্ত্রী ছাড়াই সে খেলে এবং জেতে। বোর্ড বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জেতা প্র্যাকটিস করে। জেতার কত রকমের পথ ও চাল সে দেখতে পায়।

দাবার আসরের দু-চার জন শান্তিরঞ্জনের সঙ্গে দেখা হলেই জিজ্ঞেস করে—

— কী ব্যাপার, তোমাকে তো আর ওখানে দেখি না। দাবা খেলা ছেড়ে দিলে নাকি?

— পুরোনো সেই হার এখনও মনে মনে পুষে রেখেছ? আরে, হার আছে বলেই তো জিতলে আনন্দ হয়।

— ওসব ভুলে যাও ভায়া। আবার খেলা শুরু করো।

— জানো তো দাবা খেললে মানুষ ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।

৪

ওদের কথা রেখে শান্তি অবশেষে সত্যিই এক সন্ধ্যায় রায়-বাড়িতে যায়। ওকে এত দিন পর সবাই দেখে যেমন খুশি হয়, আবার নিজেদের মধ্যে কানফিসফিসও করে। শান্তি আবার মহেশ্বরের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় জড়াবে না তো? এত দিন তো ওদের মুখ দেখাদেখি নেই। অনেক দিন পর গিয়ে শান্তি খেলতে লজ্জা পেল। খেলল না সেদিন। বোর্ডের পাশে অনেকক্ষণ বসে খেলা দেখে। তার হাত নিসপিস করে ওঠে যখন সে দেখে আর এক চালেই অপর পক্ষকে মাত করে দেওয়া যায় অথচ সে অন্য চাল দিচ্ছে।

সেদিন চুপচাপ বাড়ি ফেরে, পরের দিন শান্তিরঞ্জন বোর্ডে মহেশ্বরের মুখোমুখি হয়। মহেশ্বরও ছিল একটু অস্বস্তির মধ্যেই। সবার অনুরোধে মহেশ্বর গুটি সাজায়। প্রথম চালটা শান্তিরঞ্জনকেই দিতে বলে। সম্মুখসমরে শান্তিরঞ্জন আর মহেশ্বর। ওদের চারপাশে খেলোয়াড়দের উঁকিঝুঁকি। কে জেতে। কে হারে। শান্তিরঞ্জন কোন চালে মহেশ্বরের মন্ত্রীকে খায়। কোন চালেই বা সে হারায় মহেশ্বরকে।

৫

অনেক দিন পর শেষ পর্যন্ত দাবার আসরে বসে শান্তিরঞ্জন যা করল, কেউ ভাবেওনি। চাল না দিয়ে সহসা মহেশ্বরের দু-হাত নিজের হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে বলল—

— মহেশ্বর। বিশ্বাস করো, আজ আমি তোমাকে হারাতে আসিনি। খেলা তো আছেই। সারা জীবন থাকবেও। মাস্টারমশায়ের সেদিনের কথাটা মনে আছে তোমার? তোমার সামনে আজ বসেছি শুধু ক্ষমা চাইতে।

Discipline / Topic বাংলা

Explore more on Charcha

Discover the latest writings, journal papers, talks, and literary discussions from all Poorvam contributors.

Go to Charcha feed

Publish with Poorvam

Double-blind peer review, open access, and a platform built for Indic scholarship.